
বন্দরনগরী দালিয়ানে চীন পাচারের সন্দেহে দুই জাপানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। একটি ঘটনায় বিরল মৃত্তিকা উপাদান জড়িত থাকতে পারে—তীব্রতর বাণিজ্য সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা কৌশলগত খনিজ।
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানান, চীনা কর্তৃপক্ষ 18 মে একজন এবং 25 মে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুজনের বিরুদ্ধেই আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য পাচারবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের সন্দেহ। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, দুজনকে কথিত আইনভঙ্গের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জাপানকে জানানো হয়েছে। চীনে জাপানি নাগরিক ও ব্যবসাকে চীনা আইন মানতে বলা হয়। কোনো সরকারই সংশ্লিষ্ট পণ্যের নাম প্রকাশ করেনি।
এই অনুপস্থিত তথ্যই গল্পটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন। Asahi Shimbun জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন সম্ভবত দালিয়ানে বড় জাপানি ইলেকট্রনিকস প্রস্তুতকারকের জন্য কাজ করেন এবং বিরল মৃত্তিকা-সংশ্লিষ্ট পণ্যকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ধরে রপ্তানির চেষ্টা করে থাকতে পারেন। দাবিটি নামহীন সূত্রের ভিত্তিতে করা এবং সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।
চীন ও জাপানের তীব্র বিরোধের মধ্যে গ্রেপ্তারগুলো হয়েছে। Reuters জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির 2025 সালের তাইওয়ানসংক্রান্ত বক্তব্যে চীন ক্ষুব্ধ হওয়ার পর বেইজিং জাপানে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করেছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও অস্ত্রের জন্য বিরল মৃত্তিকা অপরিহার্য। বিশ্বজুড়ে এর প্রক্রিয়াকরণে চীনের আধিপত্য এবং অবৈধ রপ্তানিকে তারা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় মনে করে। তবে এই প্রেক্ষাপট আটক দুজন কী বহন করছিলেন বা তাঁদের উদ্দেশ্য কী ছিল তা প্রমাণ করে না।
কিহারা বলেন, আটক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ নেই এবং জাপান কূটনৈতিক পথে সহায়তা দিচ্ছে। অভিযোগপত্র, বিচার শুরুর তারিখ বা কোনো কোম্পানির পরিচয় ঘোষণা করা হয়নি।
নিশ্চিত বিষয় সীমিত কিন্তু গুরুতর: নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের অভিযোগে দুই জাপানি নাগরিক চীনের হেফাজতে আছেন। বিরল মৃত্তিকা উপাদানের যোগসূত্র এখনো প্রতিবেদিত দাবি—এমন এক অমীমাংসিত প্রশ্ন, যা দুটি গ্রেপ্তারকে অনেক বড় কূটনৈতিক সংকটে পরিণত করতে পারে।

সূত্রসমূহ: The Straits Times-এর মাধ্যমে Reuters · The Asahi Shimbun · Anadolu Agency

